Tuesday, 26 June 2018

হায়াতুন্নবী (সঃ) প্রসঙ্গঃ

হায়াতুন্নবী (সা.)
মূল : ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (র.)
অনুবাদ : মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান

সংগ্রহেঃ মোহাম্মদ সোবেল।

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য, তার মনোনিত বান্দাহদের ওপর সালাম। এটি খুব প্রসিদ্ধ যে নবী কারীম (সা.) তাঁর কবরে জীবিত আছেন। অথচ রাসূল (সা.) হতে হাদীস বর্ণিত আছে:
ما من أحد يسلم علي إلا رد الله عليّ روحي حتى أرد عليه السلام
-যে কেউ আমার ওপর সালাম দেয়, তখন মহান আল্লাহ আমার রূহ আমার নিকট ফিরিয়ে দেন, এমন কি আমি তার সালামের জবাব দেই।
এই হাদীসে এটি স্পষ্ট যে, কোন্ কোন্ সময় রাসূল (সা.)-এর রূহ পৃথক থাকে; কেবল সালামের সময় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে রাসূল (সা.) জীবিত থাকার সাথে উক্ত হাদীসের সামঞ্জস্য কিভাবে?
এটি একটি চমৎকার প্রশ্ন যার সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন।
আমি বলব, রাসূল (সা.) এবং সকল নবী তাদের কবরে জীবিত হওয়া অকাট্য দলীল দ্বারা আমাদের নিকট প্রমাণিত আছে, আর সে দলীলগুলো মুতাওয়াতির সনদে বর্ণিত। নবীগণ কবরে জীবিত হওয়া প্রসঙ্গে ইমাম বায়হাকী (র.) একটি গ্রন্থও লিখেছেন। এ বিষয়ে যে হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে তন্মধ্যে হযরত আনাস (রা.)-এর সনদে ইমাম মুসলিম (র.) বর্ণনা করেন :
أن النبي صلى الله عليه وسلّم ليلة أسري به مر بموسى عليه السلام وهو يصلي في قبره
নবী কারীম (সা.) মি’রাজ রজনীতে হযরত মূসা (আ.)-এর কবরের পাশ দিয়ে যান, তখন মূসা (আ.) তাঁর কবরে নামাযরত ছিলেন।
আবূ নু’আইম হুলিয়াতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)-এর সনদেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
“হায়াতুল আম্বিয়া” কিতাবে ইমাম বায়হাকী (র.) এবং আবূ ইয়া’লা তাঁর মসনদে হযরত আনাস (রা.)-এর সনদে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ
الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون
নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত; তাঁরা নামায পড়ছেন।
আবূ নু’আইম ‘হুলিয়া’তে ইউসুফ ইবনু আতিয়ার সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি সাবিত আল বানানীকে বলতে শুনেছি, তিনি হামিদ তাওয়ীলকে বলছেনÑ
هل بلغك أن أحداً يصلي في قبره إلا الأنبياء؟ قال: لا
-তোমার কাছে কি এরকম কোন্ হাদীস পৌঁছেছে যে, নবীগণ ছাড়া অন্য কেউ তাঁর কবরে নামায পড়েন? তিনি বললেন না। (অর্থাৎ : তাঁর কাছে নবীগণ কবরে নামায পড়েন সম্পর্কে হাদীস পৌঁছেছে)
ইমাম আবূ দাঊদ ও বায়হাকী আউস ইবনু আউস আস সাফাফীর সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী কারীম (সা.) বর্ণনা করেছেন যে, দিনসমূহের মধ্যে শুক্রবার হচ্ছে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। সুতরাং শুক্রবারে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দুরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়। সাহাবীগণ আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো নিঃশেষ হয়ে যাবেন, তাহলে আপনার নিকট দুরূদ কিভাবে পেশ করা হবে? রাসূল (সা.) জবাব দিলেনÑ
إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجسام الأنبياء
-নবীগণের দেহ ভক্ষণ করাকে মহান আল্লাহ মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
ইমাম বায়হাকী ‘শু’আবুল ঈমান’ এবং ইস্পাহানী ‘আত তারগীব’ কিতাবে হযরত আবূ হুরায়রা (রা.)-এর সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ
من صلى عليّ عند قبري سمعته ومن صلى عليّ نائياً بلغته
-যে ব্যক্তি আমার কবরের সামনে এসে দুরূদ পাঠ করে আমি নিজে তাঁর দুরূদ শুনি আর যে কারো মাধ্যমে দুরূদ প্রেরণ করে, তাঁর দুরূদ আমার নিকট পৌঁছানো হয়।
ইমাম বুখারী (র.) তাঁর ‘‘তারীখ’’ এর মধ্যে হযরত আম্মার (রা.)-এর সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি যে,
إن لله تعالى ملكاً أعطاه اسماع الخلائق قائم على قبري فما من أحد يصلي علي صلاة إلا بلغتها
মহান আল্লাহ আমার কবরের একজন ফিরিশতা নির্ধারিত করে রেখেছেন যাঁকে তিনি সকল সৃষ্টির কথা শুনার ক্ষমতা দান করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার ওপর দুরূদ পড়ে তার দুরূদ আমার নিকট পৌঁছানো হয়।
ইমাম বায়হাকী ‘‘হায়াতুল আম্বিয়া” এবং ইস্পাহানী ‘‘আত-তারগীব” কিতাবে হযরত আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : যে ব্যক্তি শুক্রবার দিনে ও রাতে আমার ওপর একশতবার দুরূদ পাঠ করবে; মহান আল্লাহ তাঁর একশতটি প্রয়োজন পূর্ণ করে দিবেন। দুনিয়াতে ত্রিশটি এবং আখেরাতে সত্তরটি। মহান আল্লাহ একজন ফিরিশতা নিয়োগ করবেন; যিনি এই দুরূদগুলো নিয়ে আমার কবরে আসবেন সেভাবে তোমাদের নিকট হাদিয়া আসে। আর আমার ইলম জীবদ্দশায় যেমন  মৃত্যুর পরও ঠিক তেমন।
ইমাম বায়হাকী উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেনÑ যে ব্যক্তি আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে তাঁর নাম ও বংশসহ আমার নিকট পৌঁছানো হবে। তারপর আমি সেই দরূদকে একটি উজ্জ্বল কাগজে লিখে রাখি।
ইমাম বায়হাকী হযরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ
إن الأنبياء لا يتركون في قبورهم بعد أربعين ليلة ولكنهم يصلون بين يدي الله حتى ينفخ في الصور
-চল্লিশ দিলের পর নবীগণকে তাঁদের কবরে ফেলে রাখা হয় না বরং তারা সিঙ্গায় ফুৎকার (কিয়ামত) দেওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহর সামনে নামায পড়বেন।
ইমাম সুফয়ান সাওরী (র.) তাঁর ‘‘জামে’’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমার উস্তাদ হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন, কোন নবীকে চল্লিশ দিনের অধিক তাঁর কবরে রাখা হয়নি বরং উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইমাম বায়হাকী বলেন, এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা জীবিতগণের ন্যায় হয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ তাদেরকে সেখানে অবস্থান করান তারা যেখানে অবস্থান করেন।
তিনি আরো বলেন, ইন্তিকালের পর নবীগণের জীবিত হওয়া প্রসঙ্গে অনেক প্রমাণ রয়েছে। যেমন ইসরার হাদীসে ইন্তিকালের পর নবীগণের দেখা-সাক্ষাত, তাদের সাথে কথা বলা ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত আবূ হুরায়রা (রা.)-এর সনদে ইসরার ঘটনা সংক্রান্ত হাদীসে আছে যে, আমাকে নবীগণের এক জামাতকে দেখানো হল। আমি মূসা (আ.)কে দাঁড়িয়ে নামাযরত, দেখেছি, তাঁকে কোঁকড়ানো চুল ও প্রশস্ত ঘাড়ওয়ালা এক নির্ভেজাল মানুষ মনে হলো। হযরত ঈসা (আ.)কেও দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখেছি, ইবরাহীম (আ.)-কেও অনুরূপ দেখেছি। অতঃপর রাসূল (সা.) নিজের দিকে ইঙ্গিত করে বললেনÑ মানুষদের মধ্যে তিনি-ই তোমাদের সাথীর সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ, অতঃপর নামাযের সময় হলে আমি তাদের ইমামতি করি।
অপর এক হাদীসে বর্ণনা করা হয়, সিঙ্গায় ফুৎকারের সময় মানুষ যখন বেহুঁশ হয়ে যাবে তখন সর্বপ্রথম আমি সংজ্ঞা ফিরে পাব।
ইমাম বায়হাকী (র.) বলেনÑ এই হাদীস এটাই প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ নবীগণের রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন, তারা শহীদগণের ন্যায় আল্লাহর নিকট জীবিত, যখন সিঙ্গায় প্রথম ফুৎকার দেয়া হবে তখন যারা বেহুঁশ হওয়ার তারা বেহুঁশ হবে কিন্তু মৃত্যু হবে না বরং অনুভূতিহীন হয়ে যাবে।
অর্থাৎ- ‘সিঙ্গায় ফুৎকারের ফলে তারা বেহুশ হবেন’ এ কথা বলা তখনই শুদ্ধ হবে যখন তাঁদের মধ্যে রূহ থাকবে। কারণ রূহ না থাকলে বেহুঁশ হওয়া অসম্ভব।
আবূ ইয়া’লা হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেনÑ আমি রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি: যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! অবশ্যই ঈসা ইবনু মারয়াম পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন। তিনি যদি আমার কবরে দাঁড়িয়ে বলেন “ইয়া মুহাম্মদ’’ তাহলে অবশ্যই আমি তার জবাব দেব।
আবূ নু’আইম “দালাইলুন নবুওয়াহ” কিতাবে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আইয়্যামে হাররার সময় মসজিদে নববীতে আমি ছাড়া কেউ ছিল না। তখন লোকজন মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত আমি রাসূল (সা.)-এর কবর শরীফ থেকে নামাযের আযান ও ইকামত শুনতাম।
ইবনু সা’দ তাঁর তবকাতে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে উল্লেখ করেন: হাররার সময় তিনি মসজিদে নববীতে অবস্থান করছিলেন আর মানুষজন যুদ্ধ করতেছিল। ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেনÑ
فكنت إذا حانت الصلاة أسمع أذاناً يخرج من قبل القبر الشريف
-যখনই নামাযের সময় হত তখন আমি রাসূল (সা.)-এর কবর শরীফ থেকে আযানের আওয়াজ শুনতাম।
ইমাম দারেমী তাঁর ‘মসনদে” উল্লেখ করেনÑ তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনু মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেন, তিনি সাঈদ ইবনু আব্দুল আযীয হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আইয়্যামে হাররার সময় তিন দিন মসজিদে নববীতে আযান হয় নাই, নামাযের জামাআতও হয় নাই। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব কবর শরীফ থেকে কিছু শব্দ শুনতেন এবং নামাযের সময় বুঝতে পারতেন।
উপরোক্ত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে নবী কারীম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ অন্যান্য সকল নবী তাদের কবরে জীবিত অবস্থায় আছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ শহীদগণের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেনঃ
ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله أمواتاً بل أحياء عند ربهم يزرقون
-আর যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং তাদেরকে রিযিকও দেওয়া হয়। (সূরা আল ইমরান-১৬৯)
-শহীদগণের এই মর্যাদা হলে আম্বিয়ায়ে কেরামের মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্য এবং মহত্ত্ব আরো বেশি। এছাড়া এমন কোন নবী নাই যাকে নবুওয়াতের সাথে শাহাদাতের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তাই উপরোক্ত আয়াতের হুকুমে নবীগণও অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম আহমদ, আবূ ইয়ালা, তাবারানী, ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে, ইমাম বায়হাকী দালাইলুন নবুওয়াতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনÑ
لأن أحلف تسعاً أن رسول الله صلى الله عليه وسلّم قتل قتلاً أحب إليّ من أن أحلف واحدة أنه لم يقتل وذلك أن الله اتخذه نبياً واتخذه شهيداً
-রাসূল (সা.) শহীদ হননি, এই কথা একবার শপথ করে বলার চেয়ে আমার কাছে নয় বার শপথ করে বলা অধিক প্রিয় যে রাসূল (সা.) শহীদ হয়েছেন। কারণ, মহান আল্লাহ তাঁকে নবী হিসাবেও গ্রহণ করেছেন আবার শহীদ হিসাবেও গ্রহণ করেছেন।
হাদীস শরীফেও রাসূল (সা.)-এর শাহাদাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- ইমাম বুখারী ও ইমাম বায়হাকী হযরত আয়শা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, আয়শা (রা.) বলেনÑ রাসূল (সা.) যে রোগে ইন্তিকাল করেন সে রোগ সম্পর্কে তিনি বলেনÑ খায়বারের সময় আমি যে বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়েছিলাম যে বিষক্রিয়া এখনও অনুভব করছি। আজ সে বিষ আমার স্বাহ রগ ছিন্ন করে দিবে।
উক্ত হাদীস থেকে ছাবিত হয় রাসূল (সা.) শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেছেন। তাই কুরআন শরীফের নস দ্বারা প্রমাণিত হলো রাসূল (সা.) তাঁর কবরে জীবিত; আর উক্ত আয়াতের অর্থ ব্যাপক।
ইমাম বায়হাকী ‘‘আল-ই’তিকাদ’’ কিতাবে লিখেন নবীগণের ইন্তিকালের পর তাঁদের রূহ তাঁদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা তাঁদের রবের কাছে শহীদগণের ন্যায় জীবিত।
ইমাম কুরতুবী (র.) “আত-তাযকিরাহ” কিতাবে ‘ফুৎকারের পর বেহুশ হওয়া’ সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তার উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেনÑ মৃত্যু অর্থ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয় বরং এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় স্থানান্তরিত হওয়া। সে হিসেবে শহীদগণ তাঁদের শাহাদাত এবং মৃত্যুর পর জীবিত, তারা রিযিক প্রাপ্ত হন, তারা আনন্দিত এবং সুসংবাদ প্রাপ্ত।
এই গুণাবলী দুনিয়ায় যারা জীবিত আছেন তাদের বেলায় প্রযোজ্য। কেননা রিযিক, আনন্দ ইত্যাদির জন্য জীবিত দেহ আবশ্যক। মহান আল্লাহ এইসব গুনাবলী শহীদদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, শহীদগণ কবরে তাদের দেহসহ জীবিত। যখন এগুলো শহীদদের ক্ষেত্রে বলা হবে তখন নবীগণ হবেন এক্ষেত্রে সর্বাধিক যোগ্য।
আর এ কথা বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত যে নবীগণের দেহ মাটি ভক্ষণ করে না।
রাসূল (সা.) মি’রাজ রজনীতে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং আসমানে সকল নবীদের সাথে একত্রিত হয়েছিলেন। মি’রাজের রাতে রাসূল (সা.) হযরত মূসা (আ.) কে তাঁর কবরে নামাযরত অবস্থায় দেখেছেন। রাসূল (সা.) আরো বলেন ঐ রাতে তিনি যাদেরকে সালাম দিয়েছেন সকলে তার সালামের উত্তর দিয়েছেন।
উপরোক্ত দলীলাদি ছাড়াও আরো অনেক দলীল দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, নবীগণ মৃত্যুর দ্বারা কেবলমাত্র চোখের আড়াল হন; তারা জীবিত অবস্থাতেই আছেন কিন্তু আমরা দেখি না। তাদের এই অবস্থা ফিরিশতাদের মতো। ফিরিশতারা যেভাবে জীবিত আছেন কিন্তু আমরা দেখি না তদ্রুপ নবীগণও জীবিত আছেন কিন্তু আমরা দেখি না। তবে মহান আল্লাহ যাদেরকে বিশেষ নি’আমত দান করেছেন অর্থাৎ ওলীগণ তাঁদের কারামত দ্বারা তাঁদেরকে দেখতে পান।
ইমাম বারাযীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে রাসূল (সা.) তাঁর ওফাতের পর জীবিত কি না? তিনি বলেন, রাসূল (সা.) জীবিত।

শাফেঈ মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ এবং উসুলবিদ আবূ মানসূর আব্দুল কাহির ইবনু তাহির বোগদাদী (র.) কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে লিখেনÑ আমাদের মধ্যে যারা প্রকৃত কালাম শাস্ত্রবিদ আছেন তাদের মতে, রাসূল (সা.) তাঁর ওফাতের পর জীবিত, তিনি তার উম্মতের নেক কাজে খুশি হন এবং মন্দ কাজে চিন্তিত হন। উম্মতের মধ্যে যারা তার ওপর দুরূদ পড়েন তাদের দুরূদ তার নিকট পৌছানো হয়। তারা (উসূলবিদ) আরো বলেন (ওফাতের পর) নবীগণের দেহ গলে যায় না, এমনকি তাদের দেহের কোন অংশও মাটি ভক্ষণ করে না। হযরত মূসা (আ.) তার যামানায় ইন্তিকাল করেছেন অথচ আমাদের নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন যে তিনি মূসা (আ.) কে তার কবরে নামাযরত অবস্থায় দেখেছেন।
মি’রাজের হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সা.) চতুর্থ আসমানে মূসা (আ.) কে দেখেছেন, দুনিয়ার আসমানে হযরত আদম (আ.) কে দেখেছেন, হযরত ইবরাহীম (আ.) কে দেখার পর ইবরাহীম (আ.) তার নেক সন্তান এবং সর্বোত্তম নবীকে “মারহাবা” বলে স্বাগতম জানিয়েছেন।
উপরোল্লিখিত বিশুদ্ধ মূলীতির আলোকে আমরা বলব: আমাদের নবী (সা.) তার ওফাতের পর জীবিত হয়েছেন এবং তিনি তার নবুওয়াতের উপর আছেন।
আবূ মানসূর বোগদাদীর শেষ বক্তব্য এটাই।
শায়খুস সুন্নাহ হাফিয আবূ বকর বায়হাকী (র.) তার الاعتقاد কিতাবে বলেন- নবীগণের ইন্তিকালের পর তাঁদের রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারা তাদের রবের কাছে শহীদগণের মতো জীবিত। আমাদের নবী (সা.) তাদের একদলকে (মি’রাজের রাতে) দেখেছেন এবং নামাযের ইমামতিও করেছেন। তাছাড়া তিনি সংবাদ দিয়েছেন নিশ্চয়ই আমাদের সালাত তার নিকট পেশ করা হয়, আমাদের সালাম তার নিকট পৌঁছানো হয়, আর আল্লাহ তা’আলা নবীগণের দেহ ভক্ষণকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন; রাসূল (সা.)-এর সংবাদ অবশ্যই সত্য।
ইমাম বায়হাকী ইন্তিকালের পর নবীগণের জীবিত হওয়া প্রসঙ্গে আলাদা একটি কিতাব রচনা করেছেন।

শায়খ আফীফুদ্দীন ইয়াফেয়ী (র.) বলেন, আউলিয়ায়ে কেরামকে এমন অবস্থায় রাখা হয় যে, তারা আসমান-যমীনের সবকিছু দেখতে পারেন, তারা নবীগণকেও জীবিতাবস্থায় দেখতে পারেন, যেভাবে আমাদের নবী (সা.) হযরত মূসা (আ.) কে তাঁর কবরে দেখেছেন। এ কথা স্বীকৃত যে, আম্বিয়ায়ে কেরামের বেলায় যে সব বিষয় মু’জেযা সে সব বিষয় ওলীদের ক্ষেত্রে কারামত হতে পারে, তবে ওলীগণ তাদের কারামতের দাবী করতে পারবেন না। ওলীগণের কারামত মূর্খ জাহেল ছাড়া অন্য কেউ অস্বীকার করে না। আম্বিয়ায়ে কেরাম তাদের কবরে জীবিত হওয়া প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরামের অনেক বক্তব্য আছে, তাই আমাদেরকে এ বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।

রূহ ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যা
ইমাম আহমদ (র.) তাঁর ‘মসনদে’ ইমাম আবূ দাঊদ (র.) ‘‘সুনানে’’, বায়হাকী ‘‘শুআবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেন :
ما من أحد يسلم عليّ إلا رد الله إلي روحي حتى أرد عليه السلام
-হযরত আবূ হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন : কেউ আমাকে সালাম দিলে মহান আল্লাহ আমার রূহ আমাকে ফিরিয়ে দেন এবং আমি তাঁর সালামের জবাব দেই।
হাদীসের এই বর্ণনা থেকে স্পষ্টত বুঝা যায় যে, রাসূল (সা.)-এর রূহ মুবারক কখনো কখনো তাঁর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। তাই উক্ত হাদীস পূর্বোল্লিখিত সব হাদীসের বিপরীত হয়ে যায়। তাই আমি এই বাহ্যিক বৈপরিত্বের সমন্ব খুঁজার চেষ্টা করেছি এবং ককেকটি জবাব পেয়েছি। যেমন:
প্রথমত: বলা যায় হাদীসটির এরকম বর্ণনা এরকম দূর্বল। এটা দাবি করা যায় যে, অস্পষ্টতার কারণে রাবী হাদীসের বর্ণনায় ত্রুটি করেছেন; আর মুহাদ্দিসীনে কেরাম অনেক হাদীসে এমন করেছেন। এরকম বর্ণনা হাদীসের মর্মার্থের সাথে বিপরীত হওয়ায় তাদের এ বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।

দ্বিতীয়ত: যদি হাদীসটির এমন বর্ণনাকে শক্তিশালী হিসাবে মেনে নেওয়া হয়। তাহলে এক্ষেত্রে আরবী ভাষায় গভীর পা-িত্য ছাড়া হাদীসটির মর্মার্থ বুঝা অসম্ভব। কেননা রাসূল (সা.)-এর বাণী رد الله বাক্যটি জুমলায়ে হালিয়া। আরবী ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী জুমলায়ে হালিয়া যখন فعل الماضي  (অতীতকালীন ক্রিয়া) হয় তখন তার পূর্বে একটি উহ্য قد ধরে নিতে হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণীÑ
أو جاءُوكم حصرت صدورهم
উক্ত আয়াতে حصرت শব্দের পূর্বে قد উহ্য শব্দ সংযুক্ত করতে হয়।
তদ্রুপ رد الله বাক্যের পূর্বে قد শব্দ ধরে নিতে হবে। আর হাদীসে উল্লেখিত حتى হরফটি তা’লীলের (কারণ বর্ণনা) জন্য নয় বরং আত্ফের واو (ওয়াও) এর অর্থ প্রদান করবে। সুতরাং উহ্য শব্দসহ হাদীসের বাক্য হবে
ما من أحد يسلم علي إلا قد رد الله علي روحي قبل ذلك فأرد عليه
-যে কেউ আমাকে সালাম দেওয়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ আমার রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন। এতে আমি সালামের জবাব দেই।

হাদীসটির ওপর কেবল তখনই আপত্তি আসে যখন হাদীসে উল্লেখিত  رد اللهবাক্যকে বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎকালীন অর্থে নেওয়া হবে। কিন্তু এটা ঠিক না। আমরা যেভাবে হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছি এরকম ব্যাখ্যা করলে কোন আপত্তি থাকবে না।
যদি বাক্যকে বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎকালীন অর্থে নেওয়া হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আরো অনেক আপত্তি আসবে। যেমনঃ
*সালাম দেওয়ার সময় রূহ দেহে আগমণ করবে আবার সালাম শেষ হলে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। এতে রূহ বারবার আসা-যাওয়া করবে; যার মাধ্যমে রাসূল (সা.) কে কষ্ঠ দেওয়া হবে। যদি কষ্ঠ নাও হয় তবু তার পবিত্র দেহকে অপমান করা হবে।
*তাছাড়া রূহ বারবার আসা-যাওয়ার করলে নবী পাক (সা.)-এর মর্যাদা শহীদগণের তুলনায় কম প্রমাণিত হবে। কেননা শহীদগণের রূহ বারবার আসা-যাওয়ার কথা প্রমাণিত নয়। বরং তাদের রূহ একবার আগমণ করার মাধ্যমে তাদেরকে জীবিত রাখা হয়েছে; এটাই প্রমাণিত। তাদের রূহ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।
* হাদীসের বাক্যকে বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎকালীন অর্থে নেওয়া হলে হাদীসটি কুরআন শরীফের আয়াতের বিপরীত হয়ে যায়। কেননা কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে মৃত্যু একবারই হবে। আর রূহ বারবার আসা-যাওয়া করলে একাধিক মৃত্যু আবশ্যক হয়; যা গ্রহণযোগ্য নয়।
* তাছাড়া এরূপ অর্থ গ্রহণ করলে হাদীসটি পূর্বোল্লিখিত মুতাওয়াতির হাদীসের বিপরীত হবে। আর উসূল হলো পবিত্র কুরআন ও মুতাওয়াতির হাদীসের বিপরীতে কোন হাদীস পাওয়া গেলে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজতে হবে। যদি সামঞ্জস্য করা না যায় তাহলে হাদীসটি বর্জন করতে হবে।

সুতরাং উক্ত হাদীসকে পবিত্র কুরআন এবং মুতাওয়াতির হাদীসের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হলে আমরা যে ব্যাখ্যা করেছি সে অর্থে নেওয়াই আবশ্যক।

দ্বিতীয় জবাব
উভয় হাদীসের বিরোধ নিরসনে আরেকটি জবাব দেওয়া যায়; আর এ জবাবটি অধিক শক্তিশালী। সেটা হলো রূহ ফিরিয়ে দেওয়া বলতে রূহকে শরীর থেকে আলাদা করা বা আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া অর্থে নয়, বরং এখানে মর্মার্থ হবে সালামকারীর দিকে খেয়াল করা। কেননা বরযখী যিন্দেগীতে রাসূল (সা.) তাঁর রবের দর্শনে ব্যস্ত। যেভাবে তিনি দুনিয়াতে ওহীর বিষয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এই ব্যস্ততা থেকে অবসর হয়ে তিনি উম্মতের আমল পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত থাকেন। সুতরাং হাদীসে বর্ণিত رد الله علي روحي রূহ ফিরিয়ে দেওয়া অর্থ হবে মনোনিবেশ করা। উলামায়ে কেরাম এই অর্থই বুঝিয়েছেন। এর সমর্থনে অনেক হাদীসও আছে। মি’রাজের হাদীসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন-
فاستيقظ وأنا بالمسجد الحرام
-আমি জাগ্রত হলাম তখন আমি মসজিদে হারামে ছিলাম।
উল্লেখিত হাদীসে জাগ্রত হওয়া তার প্রকৃত অর্থে নয়; কেননা মি’রাজ তো স্বপ্নযোগে হয়নি বরং জাগ্রত অবস্থাতেই হয়েছে। তাই এখানে অর্থ হবে দুনিয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা।
তদ্রুপ رد শব্দটিও মনোনিবেশ অর্থে ব্যবহৃত হবে। আর এটাই আমার নিকট যথার্থ ব্যাখ্যা বলে মনে হয় এবং আমি এই ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দেই।
তকী উদ্দীন সবুকী বলেনÑ নবীগণ এবং শহীদগণ দুনিয়ার জীবনের ন্যায় কবরে জীবিত। হযরত মূসা (আ.) তাঁর কবরে নামায পড়া কবরে জীবিত থাকারই প্রমাণ। কেননা নামাযের চাহিদা হলো জীবিত শরীর থাকা।
অনুরূপভাবে পূর্বোল্লিখিত মি’রাজের রাতে নবীদের যে গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে তা দেহের সাথেই সম্পর্কিত। অর্থাৎ রাসূল (সা.) এর সাথে সাক্ষাতের সময় নবীগণ স্বশরীরে ছিলেন ।
দুনিয়ার জীবনে দেহের যেভাবে খাদ্য ও পানীয় প্রয়োজন; বরযখী জীবনে সেটার কোন প্রয়োজন নেই। তবে মৃত্যুর পর সবাইকে অনুভূতি তথা বোধগম্যতা এবং শ্রবণ শক্তি দেওয়া হয়। তাই বাস্তবসম্মত জ্ঞান হলো তাদেরকে কথা বলা থেকে বিরত রাখা এক প্রকার কষ্ঠ দেওয়া। সে জন্যে যারা এই বিষয়ে কোন ওসীয়ত করে না যায় তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়। (অর্থাৎ : মৃত ব্যক্তিদেরও বাকশক্তি আছে। তাদেরকে সালাম দেয়া হলে তারা সালামের জবাব দেন। মৃত্যুর পূর্বে সবার উচিত এরকম ওসীয়ত করা যে, ইন্তিকালের পর যেন তাদের কবরে সালাম দেওয়ার তথা যিয়ারতের ব্যবস্থা করা হয়। যারা এরূপ ওসীয়ত করবে না তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে।)
আর রাসূল (সা.) সর্বপ্রকার শাস্তি থেকে পবিত্র। তাছাড়া রাসূল (সা.)-এর ওফাতের পর এই ধরণের কষ্ঠ তথা কথা বলা থেকে বিরত থাকার প্রশ্নই আসে না। কেননা রাসূল (সা.) ইন্তিকালের পূর্বে যখন অসুস্থ ছিলেন তখন হযরত ফাতেমা (রা.) কে বলেছিলেনÑ
لا كرب على أبيك بعد اليوم
-আজ থেকে তোমার বাবার জন্য কোন কষ্ঠ নাই।
তাছাড়া রাসূল (সা.)-এর উম্মতের মধ্যে শহীদগণ এমনকি সকল উম্মতকে (যারা শাস্তি পাবে তারা ব্যতিত) বাকশক্তি প্রদান করা হবে। তাহলে এক্ষেত্রে রাসূল (সা.) কে না দেওয়ার প্রশ্নই থাকতে পারে না।
সবুকীর জবাবকে আমরা আরেক অর্থে ব্যাখ্যা দিতে পারি। সেটা হলো : روح দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাক শক্তি আর رد  দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিরবিচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকা।
এই আলোচনা থেকে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয় যে, রূহ ফিরে আসা অর্থ হলো তার কবর জীবনের ব্যস্ততা থেকে অন্যদিকে মনোনিবেশ করা। রাসূল (সা.)-এর কবর জীবনের ব্যস্ততা হলো তার উম্মতের আমল প্রত্যক্ষ করা, তাদের মন্দ আমলের জন্য ইস্তিগফার করা, তাদের বিপদাপদ দূরীভূত হওয়ার জন্য দু‘আ করা ইত্যাদি। এ সব ব্যস্ততা থেকে তিনি সালাম প্রদানকারীর প্রতি মনোনিবেশ করেন। এছাড়াও তিনি যমীনের বরকতের দিকে খেয়াল দেন, তার উম্মতের মধ্যে নেক্কারদের জানাযায় উপস্থিত হন। বিভিন্ন হাদীস এবং আছারের বর্ণনা অনুযায়ী এগুলো রাসূল (সা.)-এর বরযখী ব্যস্ততা।
রাসূল (সা.) কে সালাম দেওয়া উত্তম আমল সমূহের অন্যতম এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। যখন কোন মুমিন তাকে সালাম দেয় তখন তিনি তার কবর জীবনের ব্যস্ততা থেকে এক পলকের জন্য সালামকারীর দিকে মনোনিবেশ করে তাকে অনুগ্রহ করেন এবং সালামের জবাব দেন।

রূহের আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে। সেটি হলো উল্লেখিত হাদীসে রূহ বলতে জীবনাত্মাকে বুঝানো হয় নি। বরং روح দ্বারা الإرتياح  বা প্রফুল্লতাকে বুঝানো হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী فروح وريحان 
উক্ত আয়াতে روح শব্দের রা এর উপর পেশ দিয়ে পড়া হয়; যার অর্থ খুশি বা আনন্দ। সুতরাং আমাদের আলোচ্য হাদীসের মর্মার্থ হবে উম্মতের সালামে রাসূল (সা.) আনন্দ পান, খুশি হন এবং প্রফুল্ল থাকেন।

আমার কাছে আরেকটি ব্যাখ্যা আছে। সেটি হলো রূহ দ্বারা রহমত অবতীর্ণ হওয়া উদ্দেশ্য। ইবনুল আছীর ‘নিহায়া’ কিতাবে বলেন কুরআন শরীফে যেভাবে বারংবার রূহের উল্লেখ আছে তেমনি হাদীস শরীফেও উল্লেখ করা হয়েছে। আর রূহ অনেক অর্থের সম্ভাবনা রাখে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী রূহ দ্বারা দেহের সাথে সম্পর্কিত রূহ-ই উদ্দেশ্য। পবিত্র কুরআন শরীফে রূহকে ওহী, রহমত এবং জিবরীল আমীন উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।
ইবনু মুনযির তার তাফসীরে হযরত হাসন বসরী (র.) থেকে বর্ণনা করেন। হাসান বসরী وروح وريحان আয়াতের ‘‘রা’’ কে পেশ দিয়ে তিলাওয়াত করতেন এবং বলতেন روح এর অর্থ “রহমত”। পূর্বে হযরত আনাস (রা.) হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন
أنس أن الصلاة تدخل عليه صلى الله عليه وسلّم في قبره كما يدخل عليكم بالهدايا
-তোমাদের ঘরে যেভাবে হাদিয়া আসে তদ্রুপ আমার কবরে দুরূদ আসে।
হাদীসে দুরূদ হাদিয়া আসে বলতে আল্লাহর রহমত এবং পুরষ্কার আসাকে বুঝানো হয়েছে।
হাদীসে উল্লেখিত রূহ দ্বারা আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে। সেটি হলো রূহ দ্বারা এমন ফিরিশতা উদ্দেশ্য যাকে রাসূল (সা.)-এর কবরে সালাম পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
আর রূহ শব্দ জিবরীল (আ.) ছাড়া অন্যান্য ফিরিশতাদের বেলায়ও ব্যবহার করা হয়। রাগিব ইস্পাহানী বলেন: ফিরিশতাদের মধ্যে যারা সম্মানী তাদেরকে রূহ বলা হয়।
সুতরাং হাদীসে উল্লেখিত রূহ অর্থ হবে আমার নিকট ফিরিশতা প্রেরণ করেন: যিনি সালাম পৌঁছে দেন।
উপরোক্ত ব্যাখ্যাগুলোই চূড়ান্ত ব্যাখ্যা ।
[ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (র.)-এর “হাবী লিল ফাতাওয়া” থেকে অনূদিত।

ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁনের ঈদ শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী সহ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী-কে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা ...