Thursday, 30 July 2020

ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁনের ঈদ শুভেচ্ছা


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী সহ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী-কে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁন।

তিনি এক শুভেচ্ছা বার্তা’য় জানান- করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের এই সময় মহান রাব্বুল আল আমীন আমাদের কে অনেক ভাল রেখেছেন এজন্য আমরা শুকরিয়া আদায় করি। আল্লাহর রহমতে আমাদের মধ্যে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আযহা। যা শুধু ঈদের আনন্দ নয় পাশাপাশি আমাদের ‘কুরবানির’ শিক্ষা দেয়।

এই শিক্ষা থেকে আমাদের সমাজ-কে বদলে দেওয়ার দৃড় প্রতিজ্ঞা হোক আমাদের এবারের ঈদ।



Wednesday, 15 July 2020

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা’, যেখানে মানুষের কোনো চিহ্ন নেই

এখানে কোনো মানুষের পক্ষে বেশি দিন লড়াই করা সম্ভব ছিল না। মানুষ নিতান্তই ক্ষুদ্র প্রাণী।



১০ কোটি বছর আগে সাহারা মরুভূমিতে ছিল ডাইনোসরের বাস। যেটি এখন দক্ষিণ-পূর্ব মরক্কো হিসাবে পরিচিত। এটি ভয়ঙ্কর হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসরের এলাকা ছিল। এরদের মধ্যে নাকি উড়ন্ত ডাইনোসরও ছিল। জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, এদের দলের মধ্যে অন্তত তিনটি বিরাটাকারের ডাইনোসর থাকত।

বিজ্ঞানীরা এই এলাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা হসেবে চিন্থিত করে। এমন একটি জায়গা যেখানে কোনও মানুষের ইতিহাস নেই। এখানে কোনো মানুষের পক্ষে বেশি দিন লড়াই করা সম্ভব ছিল না। মানুষ নিতান্তই ক্ষুদ্র প্রাণী।

বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল মরক্কোর সাহারা মরুভূমির প্রাচীন পাথর থেকে জীবাশ্ম সংগ্রহ করে। তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর ওই গবেষণা পত্র জার্নাল জুকিসে প্রকাশ করা হয়েছিল।নিজার ইব্রাহিম এই প্রবন্ধের প্রধান লেখক। ইনি ডেট্রয়েট মার্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার অধ্যাপক। তিনি বিশেষজ্ঞদের গবেষণার মধ্যে থেকে আফ্রিকায় ডাইনোসরদের রাজত্বের বেশ কিছু সময় তুলে ধরেছেন। মরক্কো ও অ্যালজেরিয়ার সীমান্ত ও সাহারা মরুভূমির প্রান্তে ছিল ডাইনোসরের আতুরঘর। ১৯৯৬ সালে, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল সেরেনো ও তার সহকর্মীরা এই এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে জীবাশ্ম খুঁজে পায়। এরপরই ওই স্থানের নাম দেওয়া হয় ‘কেম কেম বেডস’।

পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, ১০ কোটি বছর আগে সাহারা মরুভুমি শুষ্ক ও রুক্ষ ছিল না। পরিপূর্ণ জলাশয়, নদী ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়া ছিল। প্রচুর পরিমাণে জলজ প্রাণী ছিল এখানে।

এই জায়গা থেকে পাওয়া জীবাশ্ম পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, তিন ধরণের বৃহত্তম মাংসাশী ডাইনোসর এখানে বসবাস করত। কারক্যারোডন্টসরাস, এই ধরণের ডাইনোসরের উচ্চতা ছিল ৪০ ফুটেরও বেশি। বাকি ডেল্টাড্রমিয়াস নামক বৃহত র্যাপটরের দল ছিল। যাদের পিছনের পা লম্বা এবং সরু ছিল। এদের পাশাপাশি এই এলাকায় কুমিরের মত দেখতে হিংস্র প্রাণী ও উড়ন্ত সরীসৃপ প্রাণী ছিল।এখানে প্রচুর মাছও ছিল। ডাইনোসরের একাংশের খাদ্য ছিল মাছ। প্রসঙ্গত, সে সময় এখানে বিশালাকার মাছ পাওয়া যেত। যেমন, সিলাকান্ত, লাঙফিস। এছাড়া, এখানে একধরণের মাছ ছিল সে সময়, যার দাঁত ছিল, ছুরিতে পেচানো কাটা তারের মত।

ছাগলের খোঁয়াড়ে আশ্রয় নিলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার


ছাগলের খোঁয়াড়ে আশ্রয় নিলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার


 বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বন্য পশুরা। থাকার জায়গা ও খাদ্যের সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছে তারা। এর মধ্যেই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে দেখা গেছে, ছাগলের খোঁয়াড়ে ঢুকে পড়েছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

ভারতের আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের আশেপাশের এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা গেছে, বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঘের মাথা ও পেছনের অংশটুকুই শুধু ডুবেনি।

আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের অনেক পশুই অসহায় হয়ে পড়েছে। উদ্যানের প্রায় ৯৫ ভাগ পানিতে প্লাবিত হয়েছে, যেখানে বাঘ, হাতি ও অন্যান্য প্রাণীদের এলাকাও রয়েছে। পানি থেকে বাঁচতে উঁচু জায়গার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে পশুরা।

বাঘটিকে সংরক্ষণ ও উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যানের পরিচালক পি শিবকুমার। নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কাজিরাঙ্গা উদ্যানে প্রায় ১১৮টি বাঘ রয়েছে।

ফেইসবুকে সাহেদের ছবি ভাইরাল

ফেইসবুকে সাহেদের ছবি ভাইরাল
করোনা ভাইরাসের টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক প্রতারক সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার( ১৫ জুলাই) তাকে চরম নাটকীয়ভাবে সাতক্ষীরার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।এর পরেই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

এদিকে প্রতারক সাহেদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে দেখা যায়, সাহেদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল যন্ত্রপাতির অসংখ্য তার জড়ানো রয়েছে। তবে কি কারণে এবং কোথায় এই ছবি তোলা হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে  মো. সাহেদকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরে তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণার দায়ে সাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে চাইবে ডিবি।

 বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সাহেদকে আদালতে তুলে এ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে আজ বুধবার ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, রিজেন্টের প্রতারণার মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে।

মামলার প্রধান আসামি রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদ বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। সাহেদকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তার অদ্ভুত কথা আর হাসিতে মেতেছেন নেটিজেনরা

তার অদ্ভুত কথা আর হাসিতে মেতেছেন নেটিজেনরা
নাম তার বোরজা ইয়াঙ্কি। এমন খটমটে নাম শুনলে সবাই হয় তো বুঝবেন না। কিন্তু, তার ছবিটা দেখলেই কিন্তু সবাই লাফিয়ে উঠবেন। বিশেষত অল্পবয়সী বাংলা ভাষাভাষি নেটিজেনদের মধ্যে এখন ফেসবুকে বেশ জনপ্রিয় বোরজা। মূলত হাসিভরা মুখের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় বোরজা। এক গাল হাসি নিয়ে মজার কথা বলেন বিভিন্ন ভিডিওতে। আর তাতেই মশগুল নেট দুনিয়া।

ইদানিং এই অল্পবয়সী ইউটিউবারের নতুন করে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে বাঙালি নেটিজেনদের মধ্যে। আর তা হবে নাই বা কেন? এবার যে সেই মজাদার বাচনভঙ্গিতেই বাংলা বলছেন বোরজা! বোরজার বাংলা বলার ভিডিও দেখে হেসে কুটিপাটি নেটিজেনরা। কখনও তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে ফুচকার মতো কোনো খাবারের নাম। আবার কখনও তাকে মাহফুজুর রহমানের গভীর আবেগময়ী লাইনও বলতে দেখা যাচ্ছে হাসিমুখে, মজাদার ভঙ্গিতেই। আবার কখনো সেফুদার সেই বিখ্যাত মন্তব্য 'মদ খা, মানুষ হবি।'

চলতি সপ্তাহে বোরজার এমনই এক বাংলা বলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে ভিডিওটি। শেয়ারের সংখ্যা ৫৪ হাজার। তার সঙ্গে ১৫ হাজার কমেন্ট। বলাই বাহুল্য বেশিরভাগই বাঙালি। অনেকেই বিভিন্ন প্রবাদবাক্য বলে শোনানোর জন্য অনুরোধের আসর বসিয়েছেন কমেন্ট সেকশনে।

কানাডাবাসী বোরজা বাংলা জানলেন কী করে? অনেকেই এই প্রশ্ন করতে থাকেন। পরে অবশ্য জানা যায় তার পরিচিত এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকই তাকে টুকটাক বাংলা শেখাচ্ছেন। আর তাতেই বেশ মজা পেয়েছেন বোরজা।

স্বামীকে ছেড়ে সৎ ছেলেকে বিয়ে!

স্বামীকে ছেড়ে সৎ ছেলেকে বিয়ে!
কত অসম প্রেমের গল্পই না ঘোরে পৃথিবীর চিত্রপটে। তবে রাশিয়ার ক্রাসোন্দাতে এবার যা ঘটলো তা সচরাচর দেখা যায় না কোথাও। স্বামীকে তালাক দিয়ে সৎ ছেলের সঙ্গে ঘর পেতেছেন এক নারী।

রাশিয়ার ক্রাসোন্দার  ক্রাই নামক এলাকায় বেশ জনপ্রিয় নাম মারিনা ব্লামাশেভা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু ফলোয়ার রয়েছে তার। ৩৫ বছর বয়সী মারিনা সম্পর্কে নিজের থেকে ১৫ বছরের ছোট ভ্লাদিমিরের সৎমা।

ভ্লাদিমিরের বাবা বছর দশেক আগে বিয়ে করেছিলেন এই মারিনাকে। এক দশকের ‘অসুখী’ দাম্পত্যের পর মারিনা বুঝতে পারেন, ভালবাসা ছিলো না এখানে। তিনি এও বুঝতে পারেন  যে তিনি আসলে ভালোবেসেছেন সৎ ছেলে ভ্লাদিমিরকে। তারপর বাবার অজান্তেই শুরু হয়ে যায় সৎ মা এবং ছেলের প্রেম। একে অপরের সঙ্গে শারীরিক-মানসিক সবদিক থেকেই জড়িয়ে যান। সেই প্রেম এবার গড়াল বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত।

নিজের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে গত সপ্তাহেই সৎ ছেলেকে বিয়ে করেছেন মারিনা। রেজিস্ট্রি অফিসে বিয়ে করার পর রীতিমতো বিয়ের পোশাকে সেজে রিসেপশনেরও আয়োজন করেছেন মারিনা এবং তার ১৫ বছরের ছোট ‘বর’। বেশ কিছু অতিথিও এসেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মারিনা লিখছেন, আমি আমার সত্যিকারের জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছি। ইচ্ছে ছিল এ বছরের শুরুর দিকেই বিয়েটা সেরে ফেলব। কিন্তু লকডাউনের জন্য সেটা হলো না। গত সপ্তাহেই আমরা বিয়ে করেছি।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, মারিনা ও ভ্লাদিমিরের এই বিয়ে মারিনার আগের স্বামী তথা ভ্লাদিমিরের বাবাও মেনে নিয়েছেন।  

তবে সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না এই 'অন্যরকম' দম্পতির।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।

পৌনে ৬ লাখ ছাড়াল করোনায় মৃত্যু

পৌনে ৬ লাখ ছাড়াল করোনায় মৃত্যু বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখ ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত  আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪১ জনের। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৭৭ লাখ ১৭ হাজার ৯৭২ জন। ওয়ার্ল্ডোমিটার সূত্র এ তথ্য পাওয়া গেছে।আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় সবার উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮৩ জন আর মারা গেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৭ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। সেখানে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৫৯ জন এবং মারা গেছেন ৭২ হাজার ৯২১ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৯ লাখ ৮ হাজার ২৫৮ জন।

ঈদে গণপরিবহন বন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি

brta-gano
ঈদে গণপরিবহন চলবে কি চলবে না, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সুপারিশ অনুসারে গণপরিবহন বন্ধে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে, নৌ পরিবহন মন্ত্রী এমন সিদ্ধান্তকে ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্য করে ঈদে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আসন্ন ঈদুল আজহায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুপারিশ পেয়ে ঈদের আগের ৫ দিন ও পরের ৩ দিন সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে(বিআরটিএ) নির্দেশ দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দিয়ে বিআরটিএ’র মহাপরিচালক বরাবর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চিঠি দেয়া হয়।

এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও চিঠি পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী স্বাক্ষরিত চিঠিতে, সব ধরনের পণ্যবাহী ও জরুরি সেবা দেয়া যানবাহন ছাড়া অন্য গণপরিবহন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, ঈদের আগের ৫ দিন ও পরের ৩ দিন লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। তবে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছাড়া অন্যান্য সব সাধারণ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে।

আরো পড়ুনঃ ঈদের ৮ দিন ফেরি পারাপারে বিধিনিষেধ

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ বলেন, ঈদের আগের ৫ দিন ও পরের ৩ দিন পণ্যবাহী যেকোনো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক চলাচল করবে। যাত্রীবাহী লঞ্চ বা ফেরি চালু থাকবে।

গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্য করে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুনঃ ঈদ এলেই মহাসড়কে দুর্ভোগ

তিনি আরো বলেন, এটা আমরা সমন্বয় করে নেব। আমি যতটুকু মনে করি, বাস ও ট্রেনেও এরকমই হবে।


এক মাসের মধ্যে টিকা আনার চেষ্টায় রাশিয়া

এক মাসের মধ্যে টিকা আনার চেষ্টায় রাশিয়া

করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এর প্রতিষেধক বা টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। বিজ্ঞানীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন কার্যকর ও নিরাপদ টিকা এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এরই মধ্যে বেশ কিছু সম্ভাব্য টিকা উদ্ভাবনের দাবিও করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু সম্ভাব্য টিকা মানুষের ওপর পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এসব টিকার কোনোটিই অতি সম্প্রতি আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তাঁরা এক মাসের মধ্যে করোনার টিকা আনার ব্যাপারে আশাবাদী।

মস্কোভিত্তিক ইংরেজি ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য মস্কো টাইমস-এ গত সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা আগামী মাসেই রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। এর আগে মস্কোর এক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তারা স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর সম্ভাব্য ওই টিকার সফল প্রয়োগ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে সারা বিশ্বে টিকা তৈরির নানা উদ্যোগ নিয়ে একটি খসড়া তালিকা রয়েছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত এ তালিকায় ১৬০টি উদ্যোগের তথ্য ছিল। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ২১ টিকা মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ১৩৯টি প্রাক্-পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়ে গেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকা ২১ টিকার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের একটি টিকা আছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষণার সঙ্গে আছে ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তারা জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর নাগাদ টিকা আনার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। অক্সফোর্ডের টিকা ও চীনের সিনোভেকের টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে আছে। এ পর্যায়ে অনেক বেশিসংখ্যক মানুষের ওপর টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা হয়। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাকি ১৯টি টিকা প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে আছে। আর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান ইমিউনলজিক্যাল লিমিটেডের টিকা।

এ ছাড়া জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ওষুধ উৎপাদনকারী ফাইজার ইনকরপোরেশন টিকা আবিষ্কারে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা বলেছে, সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ টিকা উৎপাদনের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

দ্য মস্কো টাইমস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়ার সম্ভাব্য টিকাটি উদ্ভাবন করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত গামালি ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। মস্কোর দ্য সেচেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গত জুনে ৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর সম্ভাব্য ওই টিকার প্রয়োগ শুরু করে। একই সময়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনী একই টিকার দুই মাসের পরীক্ষা চালায়।

গামালি সেন্টারের প্রধান আলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেন, তিনি আশা করছেন, আগামী ১২-১৪ আগস্টের মধ্যে সম্ভাব্য টিকাটি জনসাধারণের প্রয়োগের জন্য বাজারে আনা যাবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেপ্টেম্বর নাগাদ ব্যাপক হারে উৎপাদন শুরু করতে পারবে।

সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ইয়েলেনা স্মোলিয়ারচুক বলেছেন, গবেষণাটি শেষ হয়েছে। টিকাটি নিরাপদ বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের ২৮ দিন আইসোলেশনে রাখার পর একটি দলকে আজ বুধবার এবং আরেকটি দলকে আগামী সোমবার ছাড়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি। স্বেচ্ছাসেবীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। আগামী ছয় মাস তাঁদের পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জেলের সাজা মাথায় নিয়ে ১০ বছর ঘুরে বেড়িয়েছেন সাহেদ

সাহেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার বুধবার সকাল ৯টায় তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ছবি: সাজিদ হোসেন

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য ও আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। অথচ এই সাহেদ একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। চেক জালিয়াতির একটি মামলায় ১০ বছর আগে ২০১০ সালে তাঁর ছয় মাসের সাজা হয়। তাঁকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সাত্তার দুলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাহেদ করিম। ২০০৮ সালে চেক জালিয়াতির অভিযোগে মজিবর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় বিচার শেষে ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সাহেদকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। আদালত থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে তখনই সাজার পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত সাহেদকে ধরেননি। ফলে বাদী তাঁর টাকাও পাননি। ওই মামলায় সাহেদ পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।’করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য ও আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। অথচ এই সাহেদ একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। চেক জালিয়াতির একটি মামলায় ১০ বছর আগে ২০১০ সালে তাঁর ছয় মাসের সাজা হয়। তাঁকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সাত্তার দুলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাহেদ করিম। ২০০৮ সালে চেক জালিয়াতির অভিযোগে মজিবর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় বিচার শেষে ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সাহেদকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। আদালত থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে তখনই সাজার পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত সাহেদকে ধরেননি। ফলে বাদী তাঁর টাকাও পাননি। ওই মামলায় সাহেদ পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।’বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য ও আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদঢাকার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. জাফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাহেদ একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত সাজার পরোয়ানা জারি করেছেন। সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালত থেকে দুটি পরোয়ানা আমরা হাতে পেয়েছি। আর সাহেদের বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে উত্তরা পূর্ব থানায়।
করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব। সেই মামলায় সাহেদকে বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আট আসামি।

সাজা পরোয়ানা কার্যকর প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতের সাজা পরোয়ানা হাতে পেয়েছি। এ ব্যাপারে এখন আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সাহেদের বিরুদ্ধে উপসচিবের মামলা

প্রতারণার অভিযোগে বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশনে নিয়মিত টকশো করা সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে (২০১৮ সালের ৭ মার্চ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহাবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের মালিক সাহেদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্মারক ব্যবহার করে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে একটি জাতীয় পত্রিকায়। ডিজিটাল হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট ও কর আদায় এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেট স্থাপন প্রকল্পে সকল জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কর সংগ্রহের জন্য জনবল নিয়োগের আহ্বান করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সাহেদের প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমতি নেয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে পত্রিকায় জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা ও ১০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করার জন্য বলা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের কোনো অনুমতি না নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পত্রের স্মারক উল্লেখ করে সাহেদের রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেড অপরাধ করেছে।

সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, সাজা কম

ঢাকার সিএমএম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন খাতার তথ্যে ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলার প্রমাণ মিলেছে। প্রত্যেকটিই প্রতারণার মামলা। এর মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানায় সব থেকে বেশি মামলা হয়েছে। উত্তরা পূর্ব থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছে। আর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে তিনটি। এ ছাড়া গুলশান থানায় একটি, বাড্ডা থানায় একটি, শাহজাহানপুর থানায় একটি, আদাবর থানায় একটি এবং লালবাগ থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে সাহেদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হয়েছে।

ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারিক নিবন্ধন খাতার তথ্য বলছে, উত্তরা-পূর্ব থানার ছয়টি মামলায় সাহেদ খালাস পেয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের ডিসি জাফর হোসেন জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে কতগুলো মামলা বিচারাধীন, সেটি বের করা হচ্ছে। সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় যত মামলা হয়েছে, সেই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। আবার সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে যতগুলো নালিশি মামলা (সিআর) হয়েছে, সেই তালিকাও খুঁজে বের করা হচ্ছে। ফলে সাহেদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা আছে, সেটি এখনো চূড়ান্ত করে বলার সময় আসেনি।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে ৫০টির অধিক মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাহেদ যে এত বড় প্রতারক তা আমি জানতাম না। সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের আদালতে এতগুলো প্রতারণার মামলা, সেই তথ্য পুলিশ কিংবা তাঁর পিপিরা এত দিন জানাননি। কতগুলো মামলায় সাহেদ খালাস পেয়েছেন, সেই তথ্য আমি জানি না। তবে একটি আদালত থেকে, সাহেদ ৫টি মামলায় খালাস পেয়ে থাকেন, সেই তথ্য ওই আদালতে দায়িত্ব পালনকারী পিপি আমাকে জানাতে পারতেন।’

পিপি আবদুল্লাহ আবু জানান, এখন থেকে সাহেদের প্রতিটি মামলার তথ্য নেওয়া হবে। তাঁর যাতে সাজা হয়, সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তৎপর থাকবে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও ১০ বছর ধরে সাহেদের ধরা না পড়া এবং বেশির ভাগ মামলায় খালাস হওয়া প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানামতে, ব্রিটিশ আমলে এক’শ মামলায় চার্জশিট হলে ৯০ ভাগ মামলায় আসামির সাজা হতো। আর এখন হয়ে গেছে উল্টো। বর্তমানে মামলার ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ আসামি খালাস পেয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগকে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে।’ ওরফে সাহেদ করিম। অথচ এই সাহেদ একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। চেক জালিয়াতির একটি মামলায় ১০ বছর আগে ২০১০ সালে তাঁর ছয় মাসের সাজা হয়। তাঁকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যের রহস্য কী


চীনের পর প্রথম যে কয়টা দেশের ওপর কোভিড-১৯ ব্যাপকভাবে হানা দিয়েছে, সেগুলোর একটা হলো দক্ষিণ কোরিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অনেক ইউরোপীয় দেশ যে ভুল করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া তা করেনি। দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম থেকেই কড়া নিয়ম মেনে এই মহামারি মোকাবিলা করেছে। তারা সারা দেশ লকডাউন না করেই ভাইরাসের সংক্রমণ দারুণভাবে কমিয়ে এনেছে। দেশটির এই পদক্ষেপগুলো অন্য দেশগুলো ও সুশীল সমাজের কাছে অনুসরণীয় হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া কেমন করে পারল? প্রথম যে বিষয়টি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, সেটি মোটামুটি এখন সবাই জেনে ফেলেছে। সেটি হলো করোনা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ব্যাপক মাত্রায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা (অ্যাগ্রেসিভ টেস্টিং) এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে অবশ্য শুধু টেস্টিং এবং ট্রেসিং দিয়ে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়নি। দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও ট্রেড ইউনিয়নসহ নাগরিক সমাজ নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা সরকারের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির দিকে নজর রেখেছে। ফলে সরকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলার সুযোগ কম ছিল। অর্থাৎ, মহামারি মোকাবিলায় সরকারকে সক্রিয় করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকার দ্রুত সরকারি প্রযুক্তি ও বেসরকারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গুণগতভাবে উচ্চ মানসম্পন্ন পরীক্ষা কিট উৎপাদন করেছে এবং সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের একদম শুরুতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দেশটিতে এখন পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ৬ শর বেশি। এ ছাড়া ৮০টি ড্রাইভ-থ্রু সেন্টার আছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখান থেকে গাড়ি নিয়ে দ্রুত সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে গিয়ে পরীক্ষা করে আসেন। এভাবে দক্ষিণ কোরিয়া এখন প্রতিদিন ২০ হাজার লোকের করোনা পরীক্ষা করতে সক্ষম। এ ছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা খরচে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে; তার পরিচয় এবং তার সাম্প্রতিক গমনস্থল ও চলাচলের ইতিহাস প্রকাশ করা হয়েছে। সে কোথায় কোথায় গিয়েছিল এবং কোন কোন যানবাহন ব্যবহার করেছিল, তার সম্পর্কে জেনে তার সংস্পর্শে আসা লোকেরা কোয়ারেন্টিনে যেতে পেরেছে। কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা, ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের রেকর্ড এবং সিসিটিভির ফুটেজের ওপর নির্ভর করেছে। এসব ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবহার দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈধ এবং এটি ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। অবশ্য এতে প্রাইভেসি বা একান্ত ব্যক্তিগত নিভৃতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির মানবাধিকার কমিশন আক্রান্ত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

করোনাযুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন ও এনজিওগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি। যে শ্রমিকেরা কাজ হারিয়েছে, তাদের ঘরে অবস্থান করতে সহায়তা করার জন্য কোম্পানিকে মজুরি দিতে ট্রেড ইউনিয়ন ভূমিকা রেখেছে। মৌলিক মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এনজিওগুলো সরকারকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে উদার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। যেমন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসে, তাহলে তাকে আটক করা হবে না কিংবা পরবর্তী সময়ে তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়েছে। দুই পক্ষের সদিচ্ছাই কাজটিকে সহজ করে দিয়েছে।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁনের ঈদ শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী সহ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী-কে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা ...