Tuesday, 26 June 2018

মাজহাব নিয়ে লা-মাজহাবীদের যত বিভ্রান্তি- এম এ বাসিত আশরাফ।

#মাযহাব_নিয়ে_লা_মাযহাবিদের_যতো_বিভ্রান্তি ।
      সংকলনে: এম এ বাসিত আশরাফ

আজকাল মাযহাব বিরোধী সম্প্রদায়কে দেখা যাচ্ছে মাযহাব নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে উপমহাদেশীয় অঞ্চলে লা-মাযহাবীদের ফিৎনা চরম আকার ধারন করেছে। ইংরেজ আমলে সৃষ্ট এই ফিৎনাবাজ ফিরকার বিষোদগার এতোটাই বেড়ে গেছে যে তারা মাযহাব পন্থীদের কাফের মুশরিক বলতেও কুন্ঠিত হচ্ছেনা। ইসলাম বিদ্বেষীদের ব্যপারে নিশ্চুপ থেকে এরা জীবনপণ দিয়ে মাযহাব পন্থীদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজী, কাফের মুশরীক বানানোতে এরা খুবই তৎপর। আল্লাহপাক-ই ভাল জানেন এদের জগন্য চক্রান্তের মুল উদ্দেশ্য কী এবং পিছনে কোন অপশক্তি কাজ করছে। বর্তমান সময়ে মাযহাব নিয়ে সরলমনা মুসলমান, এমনকি মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সন্দেহের প্রবণতা এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাই আমাদেরকে জানতে হবে মাযহাব কি? কোরআন বা হাদিসে মাযহাবের কোন ভিত্তি আছে কী? মাযহাব কি সবাইকে মানতে হবে?

🏝মাযহাব কি ?
মাযহাব শব্দের অর্থ – মতামত, বিশ্বাস, নির্দিষ্ট মতাদর্শ, চলার পথ বা রাস্তা, মতবাদ, উৎস ইত্যাদি। মিসবাহুল লুগাত পৃষ্ঠা ২৬২ এবং আল মু'জামুল ওয়সীত পৃষ্টা ৩১৭)।
"বোরহানুল মোকাল্লিদীন" কিতাবে আল্লামা রুহুল আমিন বলেন "ইমামগন শরী'আতের দলীলসমুহ হইতে যে সকল মাসআলা মাসাইল বিধিবদ্ধ করেছেন, তৎসমুহদয়কে মাযহাব বলা হয়।
ইসলামি পরিভাষায় মুজতাহিদ ইমাম কতৃক প্রদত্ত কোরআন-হাদীসের গবেষণালব্ধ ব্যখ্যাকে মাযহাব বলে। মাযহাব নতুন কোন ধর্ম নয় বরং কোরআন-সুন্নাহর প্রদর্শিত,রাসুল (সাঃ), সিদ্দিকীন,শোহাদায়ে কেরাম ও (সালেহীন) সতকর্মশীল ব্যক্তিবর্গের মনোনীত পথের নামই হল মাযহাব। অন্য শব্দে এটাই সিরাতে মুস্তাকিম ও সরল পথ । প্রচলিত অর্থে মাযহাব বলতে মুজতাহিদগনের নিজস্ব গবেষণালব্ধ ফাত্ওয়া সংকলন ও তার ভিত্তিতে দ্বীন ও শরী'আত পালন করার পথকে বুঝায় ।

🏝কোরআন ও হাদীসে মাযহাবের ভিত্তি ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন: "হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং রাসুলের আনুগত্য করো, আরো আনুগত্য করো তোমাদের মধ্যে যারা 'উলুল আমর' তাদের। (সুরা নিসা: ৫৯)।
উপরোক্ত আয়াতে ক্বারিমায় 'উলুল আমর' বলতে কারো কারো মতে মুসলমান শাসকগনকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন ফকীহগনকে বুঝানো হয়েছে। মুফাসসিরীনদের মধ্যে হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিঃ), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিঃ), হযরত হাসান বসরি (রাঃ) সহ বহু সংখ্যক মুফাসসিরীন দ্বীতিয় মতটি গ্রহন করেছেন।
*অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন: "যদি তোমরা না জানো, তাহলে যারা জানে তাদের জিজ্ঞেস করো"। (সুরা নাহল:৪৩)।
উপরোক্ত আয়াতে ক্বারিমায় আল্লাহ তা'লা আমাদেরকে একটি মৌলিক নির্দেশ দান করেছেন যে, কেউ কোন বিষয়ে অজ্ঞ বা অনবিজ্ঞ হলে তার জন্য বিজ্ঞজনের কাছে জেনে নেয়া এবং সে অনুসারে আমল করা । পরিভাষায় এটাই হল মাযহাব বা কারো অনুসরন করা ।
কোরআনে ক্বারীমের মতো বিপুল সংখ্যক হাদীসে মুবারাকায় ও মাযহাব প্রমানীত।
"হুযাইফা (রাদিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী করিম (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি (সাঃ) বললেন, আমি জানিনা আর কতদিন তোমাদের মাঝে থাকবো! সুতরাং আমার পর তোমরা দু'জন ব্যক্তির অনুসরন করবে। অতপর তিনি (সাঃ) আবু বকর সিদ্দীক ও উমর (রাদিঃ)দ্বয় এর দিকে ইশারা করলেন। (তিরমিযি)।
বিখ্যাত অভিধানবেত্তা ইবনে মানযুর (রহ.) হাদিস শরীফে "ফাক্বতাদু" শব্দের অর্থ লিখেন "তুমি যার আদেশ অনুসরন করছো তাকে "কুদওয়াহ" বলা হয়। তিনি আরোও বলেন "কুদওয়াহ" অর্থ আদর্শ বা মতাদর্শ, কোরআন সুন্নাহ অনুসৃত একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের নামই হলো মাযহাব।

🏝মাযহাবের উৎপত্তি কুরূনে ছালাছায় কী ছিল?
কিতাবুল ইলালে ইমাম বুখারী (রহঃ) এর উস্তাদ ইবনুল মাদীনী ১০৭ নাম্বার পৃষ্টায় লিখেন: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রিয় সাহাবীদের মধ্যে তিনজন সাহাবার মাযহাব অনুস্মরন করা হতো (১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাদিঃ) (২) যাইদ ইবনে সাবিত (রাদিঃ) (৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিঃ)।
উপরোক্ত প্রমান থেকে আমরা দেখতে পাই সাহাবায়ে কিরামদের মধ্যেও মাযহাব ছিল। তাদের যুগেও (ফিকহী সমাধানের জন্য) ফকীহ-মুজতাহিদ সাহাবাদের অনুসরন করা হতো, এ অনুসরনের অপর নামই মাযহাব।

🏝মাযহাব চারটি কেন?
লা-মাযহাবীরা মাযহাব সম্পর্কে আরেকটি অভিযোগ উত্তাপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা প্রশ্ন করে কোরআন ও হাদিস যদি এক হয়ে থাকে তাহলে মাযহাব চারটি কেন? সব মাযহাব সঠিক হয় কেমন করে?
কোরআন শরীফ এবং হাদিসে পাক এক হলেও মাযহাব বা পথ সমুহ ভিন্ন হতে পারে। সয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বিভিন্ন মাযহাব বা পথসমুহের কথা কোরআনে পাকে বলছেন। আল্লাহ তালা ইরশাদ করেন: যে আমার তরে চেষ্টা চালায় আমি তাকে আমার পথসমুহ প্রদর্শন করি। (সুরা আনকাবুত:৬৯)।
আলোচ্য আয়াতে কারিমায় "সুবুলানা" পথসমুহ শব্দ প্রয়োগ করেছেন, যা সত্য এবং একাধিক মাযহাব হওয়ার ব্যপারে দালালত বা প্রমান বহন করে।
আমরা দেখতে পাই যে সাহাবাদের যুগ থেকেই মাযহাবের ধারা চলে আসছে, পরবর্তিতে এ ধারায় বিভিন্ন অঞ্চলে সে এলাকার মুজতাহিদ আলিমদের কেন্দ্র করে সৃষ্ট হয় অসংখ্য মাযহাব! সেই সব মাযহাবের প্রবর্তক ছিলেন ইমাম সুফিয়ান সাওরী (র.), ইমাম হাসান বসরি (র.), ইমাম ইসহাক (র.) প্রমুখ যুগশ্রেষ্ট মুজতাহিদগণ। তাদের মাযহাব গ্রন্থকারে পরিপুর্ণরূপে সংরক্ষিত না হওয়ার কারনে ধীরে ধীরে সে সব মাযহাবের বিলুপ্ত হয় এবং পরবর্তিতে যুগ শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম শাফিয়ী (র.), ইমাম মালিক (র.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.) ইজতেহাদের মাধ্যমে সুবিন্যস্ত কিতাব আকারে সংরক্ষিত হতে থাকে এবং সবার জন্য সহজলভ্য হয়। ফলে বিজ্ঞ আলেম উলামা সহ সাধারন মুসলমান ও এ চার মাযহাবের একটি অনুসরন করতে থাকেন। মাযহাব চারটিতে সিমাবদ্ধ হওয়ার এটাই মুল কারন। উম্মতের ইজমা বা ঐক্যবদ্ধতা যেহেতু এই চার মাযহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাই এর বিরুধীতা করে "লা-মাযহাবী" নামে আরেকটি মাযহাব প্রতিষ্ঠিত করা এবং মুসলমানদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করা ভয়াবহ বিদআত ও গোমরাহী। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে "যে উম্মতের ঐক্যতে ফাটল সৃষ্টি করবে সে ধর্মহীন হয়ে মারা যাবে" (আহমদ:৬১৬৬)।
ইখতেলাফ বা মতানৈক্য সাহাবাদের যুগেও ছিল কিন্তু লা-মাযহাবীদের ন্যায় খেলাফ বা উগ্র ভাব নিয়ে বিরুধীতা ছিলনা! সেখানে ছিল আদব বা একে অপরের প্রতি সম্মান, কিন্তু লা মাযহাবীদের মধ্যে বেয়াদবির প্রবনতা বেশি। মাযহাব অনুসারীদের মধ্যে আদব ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ ।

🏝মাযহাব অনুসরনের হুকুম।
ইমাম ইবনে আব্দিল বার (মৃ-৪৬১ হি.) বলেন "ফা ইন্নাল আ'ম্মাতা লা বুদ্ধা লাহা মিন তাক্বলিদে উলামা'য়িহা" অর্থাৎ নিশ্চয়ই সাধারন (মুজতাহিদ নয়) মুসলমানদের জন্য তাদের আলেমদের তাক্বলিদ (মাযহাব) মানা আবশ্যক। (জামিউল বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী: খ-২, পৃ-৯৮৮)।
আসল কথা হলো, কোরআন ও হাদিস শরীফের পরিপুর্ণ জ্ঞান যাদের নাই এমন ব্যক্তির জন্য মাযহাব মানা ওয়াজিব। (ইমাম গাজ্জালী: আল-মুসতাসফা, খ-২, পৃ-১২৪)।

🎖মাযহাব নিয়ে লা-মাযহাবীদের বিরুধীতার কারন কী?🎖

বর্তমান সময়ে লা-মাযহাবীদে বিরুধীতা করার মুল কারন হলো যে, সাহাবাদের যামানা থেকে আজ পর্যন্ত মাযহাব অনুসারী সকল ইমাম, মুজতাহিদ, ফকীহ, আলিম-উলামা এবং হক্বপন্থী ওলী আউলিয়া সহ সকল মুসলমান ভুলের মধ্যে ছিলেন এটা প্রমান করা। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহের ১৪০০ বছরের হাজারো কোটি গবেষনালব্ধ জ্ঞান ভান্ডারকে গুঁড়িয়ে চিরতরে মাঠির সাথে মিশিয়ে দেয়া। এটা কোন মুসলমানের কাজ হতে পারেনা, বরং এটার পিছনে ইসলাম বিদ্বেষীদের হাত আছে অবশ্যই। (ব্রিটিশ গুপ্তচরের জবানবন্দি, পরওয়ানা পাবলিকেশন ) । আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁনের ঈদ শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী সহ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী-কে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা ...