Monday, 23 July 2018

ইসলামের_দৃষ্টিতে_ফেইক_আইডি! এম এ বাসিত আশরাফ

মোহাম্মদ সোবেল,২৩ জুলাইঃ
একুশ শতকের সব থেকে জনপ্রিয় সামাজিক নেটওয়ার্কের নাম সম্ভবত ফেইসবুক। সমস্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় শত কোটির উপর মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করছে। ফেইসবুক ব্যবহারে যেমন অনেক ভাল দিক আছে তেমনি ক্ষতি ও আছে। আজ যে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই তা হলো "ইসলামের দৃষ্টিতে ফেইক আইডি দিয়ে মানহানি ও প্রতারনা কী"?
আমাদের সমাজে অনেক যুবক ভাই বোনদের দেখা যায় অনেক সময় ফেইসবুকে ফেইক আইডি তৈরী করে থাকে। এবং তারা এ আইডি দিয়ে অনেকের সাথে প্রতারনা এবং ভাল লোকের মানহানি করে থাকে! আবার অনেকে আছে যারা ফেইক আইডি বানিয়ে ইসলাম প্রচার করে থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো , ফেইসবুকে ফেইক আইডি ব্যবহারের হুকুম কি? এটা কি জায়েয হবে?? না কি হারাম?? যদি জায়েয হয় তাহলে কোন অবস্থায় জায়েয। আর জায়েয না হলে কোন অবস্থায় জায়েয না।
ফেইসবুকে ফেইক আইডি বানানো হয় সধারনত দুটি কারনে।
💎(১): কোন মেয়ে বা ছেলের ছবি দিয়ে অথবা কোন বড় নাম করা ব্যক্তির ছবি দিয়ে আইডি তৈরী করে থাকে, মানুষদের ধোকা, অপমান অথবা হয়রানী করার জন্য।
🔹এ ব্যপারে হুকুম হলো:
এ ধরনের আইডি তৈরী করা নাজায়েয এবং সম্পূর্ণ হারাম। কারন রাসূল সাঃ বলেছেন যারা মানুষদের ধোকা দেয় তারা রাসূল সাঃ এর উম্মত নয় ।
‎قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي
অর্থ, রাসূল সাঃ বলেন, যারা মানুষদের ধোকা দেয় তারা আমর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ( মুসলিম শরীফ:১০২)।

প্রতারণা মানব চরিত্রের একটি মারাত্মক রোগ। প্রতারণা বা কৌশলে অন্যকে ঠকানো কবিরা গুনাহ তথা হারাম। এ ছাড়া প্রতারণা মূলত মুনাফিকদের স্বভাব যা আল কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।
(মুনাফিকরা মুখে কেবল ঈমানের দাবিদার), এরা আল্লাহ ও তাঁর নেক বান্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে, (মূলত এ কাজের মাধ্যমে) তারা অন্য কাউকে নয় নিজেদেরই প্রতারিত করছে। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। (আসলে) এদের ক্বলবে রয়েছে ব্যাধি। (প্রতারণার কারণে) আল্লাহতায়ালা তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে পীড়াদায়ক শাস্তি কেননা তারা মিথ্যা বলেছিল। (সূরা আল বাকারা : ৯-১০)।

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে: অবশ্যই মুনাফিকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সঙ্গে অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করছে। আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য আর তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (সূরা আন নিসা:১৪২)।

মানুষের ইজ্জত বা সুনাম এক বিরাট সম্পত্তি। মান সম্মানের ব্যাপারে আজকাল অধিকাংশ মুসলমানরা না ধর্ম মানে না আইন মানে । মানুষ আজকাল পশুর চেয়েও নগন্য হয়ে গেছে। বিভিন্ন কুৎসা রটনাসহ মানহানিকর বক্তব্য তাদের কাছে কোন ব্যপার-ই না । যারা ধর্ম মানেন তাদের স্মরনে রাখা উচিৎ যে কুৎসা রটনা, গিবত করা, পরিনিন্দা, মানুষকে খাটো করে দেখা , মিথ্যা বিদ্রুপ সবই মানহানি।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন: "মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম"। (সুরা হুজুরাত:১১)।

অন্যত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন:
"তোমরা যদি অভাবী আত্মীয় স্বজন, মিছকিনও সম্বলহীন পথিক হতে পাশ কাটিয়ে থাকতে চাও এ কারনে যে তোমরা আল্লাহর যে রহমত পাওয়ার আকাংখী তাহা এখনও তালাশ-ই করিতেছো তাহাদিগকে বিনয় সুচক জবাব দাও।” (সুরা বনি-ইসরাঈল:২৮)
এ আয়াতে একজন মিছকিনের সাথেও বিনয়সূচক বা সম্মান রেখে কথা বলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আদেশ দিচ্ছেন। সুতরাং আমরা মানুষকে না হক্ বেইজ্জত করবো কোন সাহসে? এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসে পাক হচ্ছে “জগন্যতম অত্যাচার হচ্ছে কোন মুসলমানের সম্মানের প্রতি না হক্ আক্রমন করা”

একজন সৎ ও পরহেজগার মানুষের মধ্যে প্রতারণা, ছলনা, ধোঁকা এবং বিশ্বাসঘাতকতার লেশমাত্র থাকতে পারে না।
রসুলুল্লাহ (সা.) সততার সুফলের প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ করেন, তোমাদের উচিত সততা গ্রহণ করা, নিশ্চয় সততা পুণ্যের দিকে নিয়ে যায় আর পুণ্য জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর মানুষ সত্যবাদী ও সত্যান্বেষী হয়ে আল্লাহর কাছে সিদ্দিক হিসেবে পরিগণিত হয়। (বুখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)।

💎(২): অনেকে ফেইক আইডি তৈরী করে ইসলাম প্রচার করার জন্য। বাতিল ফিরকাহ সহ বিভিন্ন মহলের ইসলাম বিদ্বেষি কুকর্ম প্রচার করার জন্য। (তবে ব্যক্তি বিশেষের ছবি দিয়ে অপমান বা মানহানির উদ্দেশ্যে নয়) এখন যদি সে তার নাম ঠিকানা দিয়ে আইডি তৈরী করে তাহলে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকী আসতে পারে, তার উপর হামলা হতে পারে এমন কি তার উপর জুলুম নির্যাতনও হতে পারে। এই কারনে তারা তাদের নাম ঠিকানা না দিয়ে ফেইক আউডি তৈরী করে থাকে।
🔹এ ব্যপারে হুকুম হলো:
এ ধরনের ফেইক আইডি তৈরী করা জায়েয আছে।
এক হাদীসে আছে রাসূল সাঃ বলেন,
‎حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الفَضْلِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الحَرْبُ خَدْعَةٌ»
অর্থ, হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগের স্থান। (বুখারী শরীফ:৩০২৯)।

এ হাদীস দ্বারা প্রমানীত হয় যে, ইসলামের সঠিক আকিদা (মত/পথ) প্রচার করার জন্য কৌশল প্রয়োগ করা বৈধ।

আশা করি ফেইক আইডির ব্যপারটা ক্লিয়ার হয়েছে। হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে বুঝার তাওফীক দান কর।
আমীন।

সংকলনে: এম এ বাসিত আশরাফ

ছাত্রদল নেতা ফারদিন খাঁনের ঈদ শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী সহ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী-কে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা ...